ফ্রিল্যান্সিং কি এবং কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন? ( সিক্রেট টিপস )

what-is-freelancing

আজকাল‘আমি একজন ফ্রিল্যান্সার’ কথাটি প্রচুর পরিমাণে শোনা যায়, যখন কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি জীবিকার জন্য কী করেন। তিনি হতে পারেন আপনার বন্ধু, সহকর্মী এমনকি আপনার পরিবারের সদস্য, যিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য তার নিয়মিত ৯ টা থেকে ৫ টা অফিস অথবা অন্য কোন কাজ করা ছেড়েছেন।

বিভিন্ন কারনে মানুষের মনে চাকরি সম্পর্কিত ধারণার হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ার কারনে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

  • তবে তারা কেন এটা করে?
  • আসলে ফ্রিলান্সাররা চাকরি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে পারে?
  • এই “ফ্রিলান্সাররা” আসলে কি করে?

এসকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আজকের নিবন্ধ (আর্টিকেল)। অর্থাৎ আজকের নিবন্ধটি হবে আপনার জন্য ফ্রিলান্সিং বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা।

ফ্রিল্যান্সিং কী?

ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা হলো একটি চুক্তি ভিত্তিক পেশা যেখানে একজন ব্যক্তি কোন অফিস বা সংস্থায় নিয়োগের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন বিক্রেতা (ক্লায়েন্ট) কে সেবা প্রদান করে।

সহজভাবে বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিং হলো, যখন কেউ একাধিক ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করার জন্য তার নিজ শিক্ষা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেন এবং কোন প্রতিশ্রুতি ছাড়া যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ গ্রহণ ও প্রদান করেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে সাধারণত কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে যা গিগ নামে পরিচিত। (জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস “ফাইবার”রে গিগ নামটি বেশ প্রচলিত। যদিও ফ্রিল্যান্সিং ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেয় তবে ফ্রিল্যান্সিং কে বাড়ির কাজ কর্মের মত মনে কারা যাবে না।

  1. ফ্রিল্যান্সিং এর বলতে এটা বোঝায় না যে যেকেউ বাড়িতে বসে সব কাজ করবে। কাজের ধরন এবং ক্লায়েন্টের চাহিদার উপর নির্ভর করে আপনাকে ক্লায়েন্টের অফিসেও কাজ করার দরকার হতে পারে।
  2. ঘরে বসে কাজে করার মধ্যে আপনি এবং একক ক্লায়েন্টের মাঝে একটি চুক্তি জড়িত থাকে যা সাধারণত ফ্রিল্যান্সিং এ থাকে না।

তবে এটা ঠিক যে ফ্রিলান্সাররা করেন এমন অনেক কাজ ক্লায়েন্টের এর জায়গায় তাদের উপস্থিতি ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহার করে সরবরাহ করা যায়।

[মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে সঠিক ধারনা নেই। যার ফলে তারা ফ্রিল্যান্সিং কে নিছক অনলাইনে কাজ করা মনে করে]

ফ্রিল্যান্সার কে?

এখন আসি ফ্রিলান্সার কে? যিনি একাধিক ক্লায়েন্টকে সেবা দিয়ে অর্থ উপার্জন করেন তিনি ফ্রিলান্সার বা ফ্রিলান্স কর্মী হিসেবে পরিচিত। এই প্রদানকৃত সেবাগুলো ঐ ব্যক্তির দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত যা কোন কারন ছাড়াই প্রদান করা হয় না।

ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত তাদের কাজ করার জন্য তৃতীয় পক্ষের প্লাটফর্মগলো যেমনঃ আপ ওয়ার্ক, ফাইবার, ৯৯ ডিজাইন ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন। এসব প্লাটফর্ম তাদেরকে সহজে ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে এবং কাজ পেতে সাহায্য করে।

তবে ফ্রিল্যান্সিং কি ক্যারিয়ারের জন্য একটি ভালো পছন্দ? ফ্রিল্যান্সিং করে কেউ কি জমকালো জীবন ধারণ করতে পারেন? ফ্রিল্যান্সিং কাজ কিভাবে শুরু করব? এসকল প্রশ্নের উত্তর পেতে সম্পূর্ণ লেখা পড়ুন।

তবে মজার তথ্য হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্টে কর্মরত বয়স্ক জনসংখ্যার ১১ শতাংশ প্রথমদিকে পূর্ণ সময়ের জন্য ফ্রিলান্সার হিসেবে কাজ করছেন। তবে অবশ্যই এ শিল্পে সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে।

পেশা হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং কেমন?

ফ্রিল্যান্সারদের উদ্ভবের ফলে, গিগ অর্থনৈতি (গিগ ইকোনমি) নামে একটি নতুন ধারণার বিকাশ লাভ করে। এই গিগ অর্থনীতি হলো এমন একটি বিষয় যেখানে কোন ব্যক্তি একজন নিয়োগকর্তার অধীনে পুরো সময় কাজ না করার বদলে এবং নির্দিষ্ট বেতন পাওয়ার পরিবর্তে নিজের শর্তে একাধিক ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করে এবং যে দামে সে তার কাজের জন্য যোগ্য মনে করে।

ফ্রিল্যান্সিং একটি আকর্ষণীয় পেশা। এটি একজন সাধারণ সেবা প্রধানে নিয়জিত মানুষের প্রায় সমস্ত সমস্যার প্রতি যত্নশীল। বিখ্যাত ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম আপওয়ার্কের গবেষণা অনুযায়ী, আমেরিকানরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৭ ঘন্টা কাজ করে। ফ্রিলান্সাররা অন্যান্য কাজে পুরো সময় নিয়োজিত কর্মীদের থেকে সপ্তাহে গড়ে ১১ ঘন্টা কাজ কম করে। যা বছর শেষে প্রয়া ৫৫০ ঘন্টা বা ২৩ দিনে পৌঁছে।

FREELANCING STATISTICS
ছবির উৎসঃ Freelancinghacks.com

মজার বিষয় হচ্ছেঃ ফুলটাইম প্রথাগত কাজে নিয়জিত কর্মীরা বছরে প্রায় অতিরিক্ত ১ মাস কীবোর্ডের পিছনে অথবা যেখানে কাজ করেন যেখানে ব্যয় করেন।

নিজের পছন্দের সময় ও যে কোন জায়গা থেকে কাজ করার স্বাধীনতার মতো সুবিধার পাশাপাশি নিজেই মালিক হওয়া, সমস্ত লাভের অংশীদার নিজে হওয়া এবং কাজ চালানোর জন্য ব্যায় কম হওয়া, এই সব গুলো সুবিধাই কোন লোককে ফ্রিলান্সিং কে পেশা হিসাবে বেছে নিতে উদ্ভুদ্ধ করে।

এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে, “তাহলে সবাই কেন ফ্রিলান্সিংকে পেশা হিসেবে নেয় না?”
বেশ, এখন আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। এর উত্তরটি সাধারণত আমাদের মন এবং চিন্তাচেতনার সাথে সম্পর্কিত।

আমাদের মন সবসময়ই নিশ্চয়তা (গ্যারান্টি) খুঁজতে ব্যস্ত। একটি নিয়মিত কাজ একটা নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ প্রদান করার নিশ্চিয়তা সরবরাহ করে। তাছাড়া একটি রুটিন মাফিক জীবন, কাজটি ভালো করার জন্য পদন্নোতি ও বীমা, অবসর গ্রহণের সুবিধা, ভবিষ্যত তহবিল এবং বেতন বৃদ্ধির মত নিশ্চিতয়তা প্রদান করে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ চাকরির জন্য খুব বেশি নিশ্চয়তা খুঁজে। যার কারনে অধিকাংশ মানুষ ব্যাবসা বা ফ্রিলান্সিং এর পরিবর্তে সরকারি চাকুরি বিষেস করে বিসিএস দিকে ধাবিত হয়।

তবে যখন আপনি ফ্রিল্যান্সিং কে বিকল্প পেশা হিসেবে বেছে নিবেন তখন এসকল সুবিধা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন। তাছাড়া একই ক্লায়েন্ট আপনার কাজে যে বার বার আসবে এমন নিশ্চিয়তা নেই। অবসর অবধি আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে কাটাতে পারবেন কিনা এমন কোনও গ্যারান্টি নেই এবং ভবিষ্যতে আপনার আয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার কোন নিশ্চয়তাও নেই।

তাছাড়াও, আপনাকে নিজের ট্যাক্স ছাড়া, বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়গুলো নিজেকে পরিচালনা করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের অন্যান্য অসুবিধাগুলো যেমন –

  • কাজের জীবনের ভারসাম্য: আপনি যদি এটা না জানেন যে ব্যক্তিগত জীবনকে কীভাবে কাজ থেকে আলাদা করতে হয়, তবে ফ্রিল্যান্সিং নিয়মিত ৯টা থেকে ৫টা প্রথাগত কাজের থেকেও আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
  • কোনও সুবিধা নেই: ফ্রিলান্সাররা যেহেতু নিজেরাই মালিক যেহেতু তাদের নিজস্ব ছুটি, অসুস্থতার জন্য ছুটির দায়িত্ব তাদের নিজেদের নিতে হয়। তাছাড়া একজন ফ্রিলান্সারকে অবশ্যই অর্থ এবং সময় পরিচালনায়ন দক্ষ হতে হবে।
  • জামেলাযুক্ত ক্লায়েন্ট: একজন ফ্রিলান্সার হিসেবে আপনার এমন কত গুলো ক্লায়েন্ট থাকতে পারে যাদের সাথে কাজ করা খবই কঠিন। তারা সঠিক কাজটি করার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা ও তথ্য দিতে ব্যর্থ হতে পারে। অথবা তারা কোন সন্দেহ দূর করতে ব্যর্থ হতে পারে। যার কারনে তার কাজরি সুন্দরভাবে করা যায় না এবং আপনার সময়ের অপচয়ের কারন হয়ে দাঁড়ায়।

এভাবে বললে দেখা যাবে যে প্রতিটি পেশায় কিছু উপকারিতা ও অপকারীতা আছে। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনার উপর যে আপনি কিভাবে টকটি পেশার সফলতা ও ব্যর্থার হিসেব করেন এবং আপনি কেমন কর্মী। যেমনঃ আপনি যদি ভাবেন যে ফ্রিলান্সিং করা আপনার জন্য উপকারী এবং এর অপকারিতা দিয়ে আপনার কোন মাথাব্যথা নেই, তাহলে এটি আপনার জন্য সুফল বয়ে আানতে পারে। কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে সম্পূর্ণলেখাটি পড়ুন।

How to become a successful freelancer

কীভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হবেন?

ফ্রিল্যান্সার হওয়া খুব বেশি কঠিন কাজ না। এটা অনলাইন থেকে কিছু ক্রয় করার মতই সহজ। আপনি এমন ওয়েবসাইটগুলোতে যান যেগুলো ফ্রিলান্স কাজ করার জন্য সুবিধা দেয়। এখানে আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী প্রোফাইল তৈরি করে কাজ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে আগে কাজের জন্য দ্কষ হতে হবে।

নিচে কতগুলে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

  • আপওয়ার্ক: আপওয়ার্ক হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিলান্সার মার্কেটপ্লেস। যেখানে থেকে আপনি অনেক ব্যবসায়িক ক্লায়েন্ট পাবেন এবং যাদের সাথে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কাজ করা যায়। এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • ফাইভার: নতুন ফ্রিলান্সারদের জন্য জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ফাইভার। তবে বাংলাদেশের তরুনদের মধ্যে এটা খুব বেশি জনপ্রিয়। আপনার কোন কাজে দক্ষতা থাকলে ফাইভারে একাউন্ট তৈরি করে আয় করতে পারেন।
  • ৯৯ ডিজাইনস: আপনি যদি একজন ভালো ডিজাইনার হন, তাহলে ৯৯ ডিজাইন হলো আপনার কাজ সন্ধান করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত যায়গা। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজর জব পোস্ট করা হয়ে থাকে যেগুলো কনটেস্ট নামে পরিচিত। এই কন্টেস্টে জয়ী হলে আপনি কাজরে যথার্থ মূল্য পাবেন এবং পরবর্তী কাজের জন্য আপনার প্রোফাইল সমৃদ্ধ হবে।
  • ফ্রিল্যান্সার ডটকম: ফ্রিল্যান্সার ডটকম হচ্ছে সবচেয়ে পুরানো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মধ্যে একটি। যখন আপনি কোন কাজে তেমন ভালো অভিজ্ঞ নন, তখন আপনি আপনার প্রথামিক পর্যায়ে এটাকে বেছে নিতে পারেন।

কয়েকটি গিগ তৈরি করে এসব সাইটের মাধ্যমে কাজ করার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে আপনিও তুলনামূলক ভালো ধারনা পেতে পারেন।

তবে এই সাইটগুলোতে কাজ করা শুরু কারার আগে আপনার নিজের জন্য ফ্রিলান্স ব্রান্ড তৈরি করার প্রয়োজন। এর জন্য নিছের পদক্ষেপেগুলো অনুসরণ করুন-

  1. আপনি কোন কোন সেবা (কাজ) করবেন তা ঠিক করুন।
  2. কোন প্লাটফর্মে কাজ করবেন তা নির্ধারণ করুন।
  3. কোন প্লাটফর্মে কাজ করবেন তা ঠিক হলে, একটা ইউনিক (অভিন্ন) নাম (username) নির্ধারন করুন। এই অভিন্ন নামটি ভবিষ্যতে আপনার ব্র্যান্ড তৈরি করতে সহযোগিতা করবে।
  4. আপনার কাজের দাম নির্ধারণ করুন।
  5. এর পরে অনলাইন পোর্টফলিও তৈরি করা যায় এমন ওয়েবসাইটে আপনার পোর্টফলিও তৈরি করুন।
    • কতগুলো পোর্টফলিও ওয়েবসাইট যেমন-
      • গিটহাব – ডেভলপারদের জন্য।
      • বিহান্স – ডিজাইনারদের জন্য।
    • এমন আরো অনেক। আমাদের পরামর্শ হলো আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী প্রোফেশনাল একটা পোর্টফোলিও তৈরি করবেন।
  6. এখন আপনার পরিষদে গুলোর প্রচার করুন। এক্ষেত্রে সোশাল মিডিয়া যেমন- লিঙ্কডিন, ফেসবুক, টুইটর অনেকটা সহায়ক হতে পারে। যদিও আপনি যখম তৃতীয় পক্ষের কোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন, তারাই আপনার প্রচারণায় সহযোগিতা করবে এবং আপনায় আয়কৃত অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

আমরা আপনাকে আপনার বর্তমান আয়ের উৎস ছেড়ে পুরোপুরি ফ্রিলান্সিং এর উপর ঝাঁপিয়ে পরার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি না। আপনার উচিত হবে প্রথমদিকে যাচাই করা যে ফ্রিলান্সিং আসলেই আপনার জন্য কার্যকরী কিনা। এর জন্য প্রাথমকিভাবে আপনহ ফ্রিল্যান্সিংকে খন্ডকালীন পেশা হিসেবে চেষ্টা করতে পারেন।

তাছাড়া, এটা প্রয়োজনীয় নয় যে আপনাকে পুরো সময় ফ্রিল্যান্সিং করতে হবে৷ আপনি পুরো সময় করতে চান এবং আপনার আগের চাকরিটি রাখতে চান অথবা বাদ দিতে চান এটা সম্পূর্ণরূপে আপনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।

তবে যদি আপনার মনে হয় যে কাজগুলো যেভাবে চলছে তা আপনি সত্যিই উপভোগ করেন তাহলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য আপনি তৈরি।

পরবর্তী ধাপঃ

একবার যখন আপনার মনে হবে আপনি কাজটি সফলতার সাথে সম্পূর্ণ করে ডেলিভারি দিতে পারবেন অথবা এমন কাজ আপনি করতে পারেন, পরবর্তী ধাপটি গলো আয়ের একাধিক উৎসের জন্য একাধিক কাজ গ্রহন করা। এগুলোর জন্য সেসকল গিগ অন্তর্ভুক্ত করা, যেগুলো আপনি ব্যক্তিগতভাবে উপরে আলোচিত পদ্ধতি এবং পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো ব্যবহার করে পেয়েছেন।

আরোও একটি সম্ভাবনা হলো আপনি ফুল টাইমের জন্য গিগ তৈরি করতে পারেন। আর পুরো সময়ের জন্য ফ্রিল্যান্সিংয়ের মানে অর্থ আয়ের ভিন্ন ভিন্ন ধরন। এখন আপনি যা করতে পারেনঃ

  • কাজগুলো নিয়ে মাসিক ভিত্তিডে আলোচনা করুন।
  • বিক্রিয় প্রকল্পগুলোতে কমিশন নিয়ে আলোচনা করুন। অর্থাৎ আপনি ক্লায়েন্টের কোন পন্য বিক্রির করে দিওয়ার মাধ্যমে একটা কমিশন পাবেন।
  • রেফারেল সিস্টেম তৈরি করুন। অর্থাৎ, যারা আপনার কাছে নতুন ক্লায়েন্ট পাঠাবে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করুন।
  • সরাসরি নিজের জন্য প্রচারণা চালান। নিজের জন্য একটা নিখুঁত ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং তৈরি করুন।

আয়কৃত অর্থের যত্ন নিনঃ

যখন আপনি চাকরি করেন তখন বেশিরভাগ আর্থিক হিসাবের যত্ন আপনি যে সংস্থা বা কোম্পানির জন্য কাজ করেন তারা করে থাকে। ব্মস শেষে আপনি কোন চিন্তা অথবা জিজ্ঞাসা করা ছাড়াই বেতন পাবেন এবং আপনার কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেয়া হয় আর বীমাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দায়িত্ব নিয়োগকর্তা নিয়ে থাকে সাধারণত। তবে এটা বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো ভাবে প্রযোজ্য নয়।

কিন্তু যখন আপনি নিজেই নিজের মালিক, তখন এ বিষয়গুলো আলাদার করে যত্ন নিতে হবে আপনাকে।

আপনি যখন নিজেরাই থাকবেন তখন বিষয়গুলি আলাদা হয় এবং আপনাকে নিম্নলিখিতগুলি নিজের দ্বারা যত্ন নিতে হবে:

  • আপনার আয়কৃত অর্থে বুঝে নিনঃ আপনি ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় নতুন অথবা অভিজ্ঞ যাই হোন না কেন, কাজ শেষে প্রতিটি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অর্থ বুঝে নিন। ক্লায়েন্টের সাথেসময় এবং আপনার কাজের জন্য অর্থ প্রদানের জন্য তাদেী সাথে সঠিকভাবে আলোচনা করা এবং যোগাযোগ করা। যদিও এই কাজটি অনেকটা কষ্টকর। আয়কৃত অর্থের সঠিকভাবে যত্ন নিন। তাহলেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ভালো করতে পারবেন।
  • বীমা এবং অবসর গ্রহণের সুবিধা: আপনাকে সবচেয়ে ভালো বীমা পলিসিটি সন্ধান করতে হবে এবং নিজেই নিজের কাজ থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।

এক কথায় বলতে গেলে একজন ফ্রিলান্সার হওয়া এবং এই গিগ অর্থনীতিতে কাজ করতে গিয়ে আপনকে ক্লায়েন্টের সাথে অর্থ নিয়ে আলোচনা করা, বীমা সন্ধান করা এবং নিজের অর্থের জন্য অনেক বেশি দায় নেয়া প্রয়োজন হয়। তবে আপনি যদি স্বাধীন, নমনীয় উপার্জনের পথকে ভালোবাসেন তবে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য আদর্শ পেশা। যদিও বাংলাদেশ এখনো অনেকটা পিছিয়ে এসব দিক দিয়ে।

পরিশেষেঃ

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টার সমান সংখ্যক ইতিবাচক এবং নেতিবাচক গুন রয়েছে। এখন আপনাকে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি সর্বদা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাথে থাকা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত কিনা। ফ্রিলান্সিং অর্থ আয়েয় একটি স্বাধীন মাধ্যম, সেই সাথে অনির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ উপার্জন ও ব্যর্থতার ঝুঁকিও বটে। আপনার পেশা জীবনে এমন ঝুঁকি আপনি নাও চাইতে পারেন। তবে আপনি যদি আপনার প্রথাগত কাজ ছেড়ে আপনার ভালোলাগে এমন কাজের জন্য ঝুঁকি নেন, তাহলে আপনার নাম এবং খ্যাতি উপার্জনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি নিয়ে আরেকটু চিন্তা করুনঃ

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ওয়ার জন্য আজকের নিবন্ধটি। আমরা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বলার চেষ্টা করেছি। এর পরে আমরা যদি কিছু বাদ দিয়ে থাকি যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো মন্তব্য করে আমাদের জানান। অথবা আপনি আমাদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে আপনার ভাবনা কি, তা আমাদেরকে মন্তব্য করে জানাতে পারেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

[…] ডিজাইন একটি জনপ্রিয় ও সৃজনশীল কাজ। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে লোগো ডিজাইনের চাহিদা ব্যাপক […]

[…] পড়ুন – ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে একজন সফল ফ্রিলান্সার […]